মুরাদনগর সংবাদদাতা
বৃদ্ধ দম্পতির ৪ ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা সবাই থাকেন প্রবাসে। মেয়ে থাকেন স্বশুর বাড়িতে। ট্রাকের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে একই পরিবারের নিহত চার জনের মধ্যে বৃদ্ধ দু’জন পিতা মাতাকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন একমাত্র মেয়ে রোমানা আক্তার (২৫)। গত শুক্রবার বিকেলে বিয়ের দাওয়াত খেতে ছেলের শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পথে একই পরিবারের চার জন নিহত হয়। সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সকলের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। এ ঘটনায় আহত অপর দু’জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এলাকায় গিয়ে জানা যায়, যাত্রাপুর গ্রামের নাবালক মিয়া শুক্রবার তার চতুর্থ ছেলে রাসেল মিয়ার শ্বশুর বাড়ি ব্রাহ্মন বাড়িয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে রওয়ানা দেয়। সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ এলাকায় পৌছাঁমাত্র কুমিল্লাগামী ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সাথে সিএনজির ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িতে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই ঘটনাস্থলে মারা যায়। নিহতরা হলেন- নাবালক মিয়া (৭২), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৬০), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৫) ও ছেলে আল-আমিনের মেয়ে নাদিয়া আক্তার (৫)। এ ঘটনায় আহত নিহত নাবালক মিয়ার ছোট ভাই খুরশিদ আলম (৬০) ও নাতনি জান্নাত আক্তারকে (৪) ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম ভূইয়া সেলিম দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের ফোন পেয়ে বিলম্ব না করেই আমি ঘটনাস্থলে যাই, যেহেতু তার পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য নাই। সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতেই লাশগুলো বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করি। এ হৃদয় বিদারক দৃশ্য আমাকে তাড়া করছে। সারাক্ষণ শুধু আমার চোখে তাদের মৃত্যু দেহগুলো ভাসছে।
যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, একই পরিবারের চার জনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকা জুড়ে শোকের বাতাস বইছে। একমাত্র মেয়ের আহাজারিতে দেখতে আসা প্রতিবেশীদের চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। দাওয়াত খেতে গিয়ে পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনের ঘটনাস্থলে মৃত্যুর এমন ঘটনা এই গ্রামে আর ঘটে নাই।