ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কালিরবাজারে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবর ভাইরাল, পুলিশ বলছে চেষ্টা

author
Reporter

প্রকাশিত : Feb 26, 2026 ইং 156 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় বাড়ি ফেরার পথে তরুণীকে (২২) তুলে নিয়ে জঙ্গলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটেছে এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এনিয়ে কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ নিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবার ঘটে যাওয়া বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তারা এই বিষয়ে কোন কিছু বলতেও রাজি না। তরুণী জানান, আমি অসুস্থ, হাসপাতালে আছি। আমার যতটুকু ইজ্জতহানি হয়েছে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে বাকীটুকুও শেষ করতে চাই না। আমাদের জন্য আইন আদালত আছে। আমরা মামলা করেছি পুলিশ সব জানেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কুমিল্লার কোতয়ালী থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক নার্সকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশের কাছে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং নিজেই বাদি হয়ে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা করেন। তারমধ্যে রিয়াদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

আসামীরা হলেন, কুমিল্লার কালিরবাজার ইউনিয়নের মোস্তাফাপুর কাচার গ্রোমের খোকন মিয়ার ছেলে রিয়াদ (২০) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা রিপন (২৫)। 

ভুক্তভোগী তরুণী কুমিল্লার কালিরবাজার ইউনিয়নের মোস্তফাপুর কাচার গ্রামের বাসিন্দা। সেই কালিরবাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে কালিরবাজার ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মো. মান্নান জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শেষে তরুণী বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বাড়ি ফিরছিলেন। সড়কের পাশে বসে থাকা দুইটি ছেলের মধ্যে রিয়াদ নামে একটি ছেলে ওই মেয়ের হাত ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টায় ধর্ষকের হাত থেকে ছুটে মেয়েটি দৌড়ে বাড়িতে আসেন। এসে মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন ক্ষীপ্ত হয়ে বাড়ির প্রতিবেশিরা অভিযুক্ত রিয়াদ বাড়িতে হামলা চালাতে চেষ্টা করে। রিয়াদ একই এলাকার মোস্তাফাপুর কাচার গ্রোমের খোকন মিয়ার ছেলে। তারা রংপুর জেলা থেকে এসে মোস্তাফাপুর কাচার গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন। 

তিনি আরও জানান, ঘটনা শুনে আমরা বাড়ি যাই। ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্তের হামলা করতে আসলে আমরা সমাধার চেষ্টা করেছি। এবং বাড়ি ভিতর থেকে অভিযুক্ত রিয়াদকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। 

অন্যদিকে ভাতিজিকে ধর্ষণের কথা শুনে স্ট্রোকে চাচার মৃত্যু এক তথ্যটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় মেম্বার মো. মান্নান আরও জানান, ধর্ষণের চেষ্টার কথা শুনে মনির হোসেন নামে একটি প্রবাসীও সেখানে আসনে। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী আনন্দপুর গ্রামে। মোস্তফাপুর কাচার গ্রামে এসে নতুন বাড়ি করে বসতি করেছেন। ধর্ষণের চেষ্টায় শিকার হওয়া তরুণীর সম্পর্কে কিছুই হয়না মারা যাওয়া ব্যক্তি কিছুই হয়না। সে দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলেন। প্রাবাসে থাকা অবস্থায় তিনি একাধিকবার স্ট্রোক করেছেন। বাড়িতে আসার পরও করেছেন। বুধবার রাতে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে মারা যাওয়া মনিরের ভাই হামলায় জড়িয়ে পড়লে নিজের ভাইয়ের সাথে উচ্চশব্দে কথা বলতে গিয়ে স্ট্রোক করে ঘুরে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে কালিরবাজার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মারা যায়।       

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ না ধর্ষণের চেষ্টার শিকার জানতে চাইলে ভুক্তভোগী তরুণী এবং তার মা কোন কথা বলতে রাজি হননি। অনেক চেষ্টা করেও তাদের মুখ থেকে কোন কিছু জানা সম্ভব হয়নি। 

কুমিল্লার কোতয়ালী থানার ওসি আনোয়ারুল হক বলেন, ধর্ষণে চেষ্টায় তরুণী একটি মামলা করেছে। ঘটনার পর আটক হওয়া এব ব্যক্তিকে মামলার পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকী আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে রয়েছে। 






নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS