কান্দিরপাড়, কুমিল্লা | | বঙ্গাব্দ

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রুগ্ন কুমিল্লার চিড়িয়াখানা

author
Reporter

প্রকাশিত : Oct 31, 2020 ইং
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

শূন্য খাঁচা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর ময়লা ও পচা পানির দূর্গন্ধে কুমিল্লার চিড়িয়াখানর রুগ্ন অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন মো. হাশেম নামে এক দর্শনার্থী। খুব সকালে তিনি দেবিদ্বার থেকে পরিবার নিয়ে আসেন এখানে। ধারণা ছিল চিড়িয়াখানায় বন্দি থাকা নানা জাতের পশুপাখি দেখে পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। কিন্তু সেই ধারণা পাল্টে গেছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় এসে। তাই হতাশা হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফিরে গেছেন। দর্শনার্থী মো. হাশেমের মতো অন্যান্য দর্শনার্থীরাও কুমিল্লা চিড়িয়াখানার এই ভগ্নদশা দেখে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন। 

দর্শনার্থী মো. হাশেম বলেন, তেমন পশুপাখি নেই চিড়িয়াখানাটিতে। অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো। ধারণা ছিল খাঁচায় বন্দি থাকা পশুপাখি দেখাবো পরিবারের সদস্যদেরকে। খাঁচা শূন্য এমন পরিবেশের কথা জানলে জনপ্রতি ২০টা টিকেট দিয়ে প্রবেশ করতাম না। 

চিড়িয়াখানায় সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চার পাশের ঝোপঝাড় আর জঙ্গলে ডুবে আছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা। দীর্ঘদিন জমে থাকা পচা পানির দুর্গন্ধ চড়াচ্ছে চারদিকে। বাঘ, সিংহ এবং হনুমানসহ অধিকাংশ পশুপাখির খাঁচা শূন্য। মেছো বাঘের বাচ্চা এবং বানরসহ অল্প কিছু পশুপাখি থাকলে সেগুলোও অবহেলা অযতেœ। নিয়মিত খাবার পানি এবং খাদ্য সংকটে ভুকছেন। কেউ খাঁচার পাশে গিয়ে দাঁড়ালে ক্ষুধার্ত বানর এবং পাখিগুলো খাবারের জন্য দৌড়ে আসে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় খাঁচায় বন্দি পশুপাখিগুলো রুগ্ন হয়ে পড়ছে। 

এছাড়াও খাঁচার চারপাশ কাঁদাপানি ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে তৈরি হয়েছে। পশুপাখির থাকার স্থানগুলো স্যাঁতস্যাঁতে। খাঁচার সামনে দাঁড়ালে দুর্গন্ধ চড়াচ্ছে।  

চিড়িয়াখানার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা মো. শাহ আলম জানান, এই চিড়িখানায় বাঘ, সিংহ এবং হনুমানসহ অধিকাংশ পশুপাখির খাঁচা শূন্য। ৩টি হরিণ, ১টি অজগর সাপ, ২টি মেছো বাঘের বাচ্চা, ৩টি ময়ূর, ১টি কালাম পাখি, ৬টি খরগোশ, ১০টি বানর, ৪টি তিতির পাখি ও ৩টি বাজ পাখি বর্তমানে খাঁচায় রয়েছে। 

কুমিল্লা চিড়িয়াখানার এই বেহাল দশা দেখে জাকির ও নিজাম উদ্দিন নামে আরও দুই দর্শনার্থী বলেন, ময়লা আবর্জনা পূর্ণ পরিবেশ এবং পচা পানির দুর্গন্ধে খাঁচায় বন্দি থাকা পশুপাখিরগুলোর জন্য কষ্ট হচ্ছে। তারা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত। চিড়িয়াখানার পরিবেশটাকে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। চিড়িয়াখানা তার প্রাণ ফিরে পেতে পশুপাখি সংরক্ষণের দাবি জানান তারা। 

চিড়িয়াখানার ইজারাদার মো. আনিছুর রহমান জানান, পানি নামনে না পারায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টিতে প্রায় সময় হাটু পানি তৈরি হয়। আমি ৩০ লাখ টাকা দিয়ে জেলা পরিষদ থেকে চিড়িয়াখান এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন ইজারা নিয়েছি। কিন্তু জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ চিড়িয়াখানার জন্য দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করছেন না। করোনা মহামারীতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো দিবে জানতে পেরে আমি ৩টি হরিণসহ কিছু পশুপাখি এনেছি দর্শনার্থীদের জন্য। তবে জেলা পরিষদ এবং সরকার চাইলে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। 

চিড়িয়াখানায় পশুপাখি সংকট এবং পরিবেশের বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আমাদেরকে কোন পশুপাখি দিচ্ছে না। আমরা কুমিল্লার জন্য কিছু পশুপাখির জন্য একাধিকবার লেখালেখি করেছি। বন্ধবন্ধু সাফারি পার্কেও যোগাযোগ করেছি। এছাড়া আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে। যার কারণে পরিবেশ ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একজন মাত্র লোক আছে তিনি খাঁচায় থাকা পশুপাখিকে খাবার দেন। তবে আমাদের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে চিড়িয়াখানাটি সংস্কার করতে। এছাড়া চিড়িয়াখানায় পশুপাখি সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করছে।    



নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab