ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বাকসংযম

author
Reporter

প্রকাশিত : Mar 11, 2026 ইং 121 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728
আবদুল্লাহ আল মুনীর

জিহ্বা মানুষের ছোট একটি অঙ্গ। তবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের ভেতরের ভালো মন্দ, সত্য  অসত্য, ভালোবাসা ঘৃণা, ক্ষোভ ক্রোধ সবকিছুই প্রকাশ পায় এই জিহ্বা দিয়ে কথার মাধ্যমে। সে হিসেবে মানুষ বিবেচিত হয় ভালো বা মন্দে। এরই মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকারোক্তি দেয়া হয়।  আবার এরই মাধ্যমে কুফরের ঘোষণা দেয়া হয়। জিহ্বা নিরাপদ থাকা মানে অন্য সব অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ নিরাপদ থাকা। এ বাস্তবতাটি হাদিসেও এসেছে। আবু সাঈদ খুদুরি রাযি. থেকে বর্ণিত - যখন মানুষ দিন শুরু করে, তখন তার সকল অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ জিহ্বার প্রতি নত হয়ে বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ,আমরা তোমার উপর নির্ভরশীল। তুমি যদি ঠিক থাকো,তাহলে আমরাও ঠিক থাকবো। আর যদি তুমি বিচ্যুত হও তাহলে আমরাও বিচ্যুত হবো। - তিরমিজি ২৪০৭ 

জবানের এই গুরুত্বের কারণেই জবানের হেফাজত, পরিমিত ব্যবহার এবং জবান হেফাজতকারীর প্রতিদান সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।  সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন - যে ব্যক্তি নিজের দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ  এবং  দুই উরুর মধ্যকার অঙ্গের হেফাজতের দায়িত্ব নেবে,  আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেবো। - বুখারি ৬৪৭৪ 

মানুষকে সতর্কভাবে কথা বলার এবং বলা কথার হিসাব নিকাশ ও পর্যালোচনা করার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ অসতর্কভাবে মানুষ কখনো কখনো এমন জঘন্য কথা বলে ফেলে যা তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। আবু হোরায়রা রাযি.  বলেছেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, বান্দা কখনো কখনো এমন কথা বলে বসে,  যা তার কাছে সামান্য মনে হয় ; কিন্তু সেই কথাই তাকে জাহান্নামের এতো গভীরে নিক্ষেপ করে,যত দূরত্ব রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। -বুখারি ৬৪৭৭ মুসলিম ২৯৮৮

একারণেই জিহ্বা  নিয়ন্ত্রণ ও কথায় সংযমের গুণ অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া আমাদের উচিত। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন - যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে সে যেনো ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।- বুখারি ৬০১৮

উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত- আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসুল,  মুক্তির উপায় কী?  রাসুল (সা.) বললেন, তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করো, নিজের ঘরে অবস্থান করো আর কৃত পাপের কথা স্মরণ করে অনুতাপের অশ্রু ঝরাও।- তিরমিজি ২৪০৬

জবানের সংযমে আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসা অর্জন হয়, লাভ হয় জান্নাতের সুসংবাদ আর জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি, পাপ হয় কম, বেড়ে যায় পুণ্য, তিরস্কার, লাঞ্ছনা ও অশান্তি থেকে নিষ্কৃতি লাভ হয়, সুন্দর হয় চরিত্র ও ব্যবহার, আর সর্বদা অন্তরে থাকে এক অনাবিল প্রশান্তি।

জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ ও মার্যিত ব্যবহার মানুষকে মার্যিত শালীন ও সুন্দর করে তোলে অন্যদের চোখে। দান করে নিরাপদ এক জীবন।

লেখক- ইমাম ও খতীব : ছায়াবিতান হাউজিং সোসাইটি জামে মসজিদ দৌলতপুর, কুমিল্লা।



নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS