কান্দিরপাড়, কুমিল্লা | | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ৫’শ কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দ-গর্তে দুর্ভোগ!

author
Reporter

প্রকাশিত : Oct 21, 2020 ইং
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পিচ ঢালাই উঠে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে কুমিল্লার জেলার প্রায় পাঁচশো কিলোমিটারের বেশি সড়কের। এসব সড়ক জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সড়কের দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও দুর্বিষহ রূপ নিচ্ছে। নাভিশ্বাস ওঠছে অন্তহীন ভোগান্তিতে। গেল বছরের বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়ায়, চলতি বছরের ভারি বর্ষণে ওই ৫’শ কিলোমিটার সড়কে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এসব সড়ক খুব শিঘ্রই সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষা এবং ভারি বর্ষানে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার (এলজিইডি) দেওয়া তথ্য ও সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় সওজ বিভাগ ও এলজিইডি’র আওতাধিন প্রায় ৫’শ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার এলজিইডি’র ১৯৮ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৫’শ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৭৫১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এর মধ্যে কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক মহাসড়ক, লাকসাম-চট্টগ্রাম সড়ক, এবং কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড় থেকে কোটবাড়ি হয়ে বরুড়া সড়কের পিচ ঢালাই উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে দিন দিন গর্তে গভীরতা বাড়ছে। অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচল। সওজ কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন পর পরই ইট দিয়ে গভীর গর্তগুলোতে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলেও থাকছে না ২/৩ দিনের বেশি। ওই সব স্থানে প্রায়ই যানবাহন আটকে যাচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনা।

এছাড়া কুমিল্লায় এলজিইডির ১০ হাজার ২০০কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রামের প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গেল বছরের বর্ষার পর সংস্কার না হওয়ায় এবারের ভারী বর্ষণে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কের গর্তে ড্রেনে পানি এসে যান চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এছাড়াও কুমিল্লা শহরতলী, উপজেলা সদর এবং গ্রামাঞ্চলের সড়ক গুলোর একই অবস্থা। এ বেহাল অবস্থা শুধু পাকা সড়কের। তবে ইট বিছানো এবং মাটির রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক। সড়কের এমন বেহাল অবস্থা কোনটির এক বছর, কোনটির এক যুগেরও বেশি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুমিল্লার (এলজিইডি) সূত্রমতে, কুমিল্লায় এলজিইডির ১০হাজার ২০০ কিলোমিটার কাচা-পাকা সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক পাকা। পাকা সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২’শ কিলোমিটার খানাখন্দ ও গর্তে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে সড়কের এই বেহাল দশা হয়েছে বলে এলজিইডি‘র দাবি। এদিকে এলজিইডি ২’শ কিলোমিটার সড়ক বেহাল দাবি করলেও এর পরিমাণ অনেক বেশি বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বেহাল এসব সড়কের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কও রয়েছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ১২টি সড়কের ১৭ কিলোমিটার, বি-পাড়া উপজেলার ৮টি সড়কের ১১ কিলোমিটার, বুড়িচং উপজেলার ১৪টি সড়কের ১৭ কিলোমিটার, বরুড়া উপজেলার ১০টি সড়কের ৯ কিলোমিটার, চান্দিনা উপজেলার ৪টি সড়কের ১৮ কিলোমিটার, সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি সড়কের ৩ কিলোমিটার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১টি সড়কের ২০ কিলোমিটার, দেবিদ্বার উপজেলার ৭টি সড়কের সাত কিলোমিটার, দাউদকান্দি উপজেলার একটি সড়কের দুই কিলোমিটার, হোমনা উপজেলার ৩টি সড়কের ৮ কিলোমিটার, লাকসাম উপজেলার ১৩টি সড়কের ৩৬ কিলোমিটার, মেঘনা উপজেলার ৫টি সড়কের ৪ কিলোমিটার, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৭টি সড়কের ১৩ কিলোমিটার, মুরাদনগর উপজেলার ৩টি সড়কের ১৬ কিলোমিটার, নাঙ্গলকোট উপজেলার ০৩টি সড়কের ৫ কিলোমিটার, লালমাই উপজেলার ৬টি সড়কের ১৪ কিরোমিটার এবং তিতাস উপজেলার ৩টি সড়কের ৫ কিলোমিটার সড়ক বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে দিন দিন গভীর গর্তে রূপ নিচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সড়ক ও জনপথ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বেহাল কয়েকশত কিলোমিটার সড়ক।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার কেয়ারী গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান শাহিন জানান, এলজিইডি’র আওতাধিন কেয়ারী থেকে গাজিয়াপাড়া গ্রামের যাওয়ার আড়াই কিলোমিটার সড়ক বহু বছর যাবত বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া ওই কেয়ারী গ্রামের উত্তর পাড়ার আধা কিলোমিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টিতে কাঁদা-পানিতে জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে না সংস্কারের উদ্যোগ। চলাচলের অযোগ্য ওই দুইটি সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে গ্রামে অবস্থিত পঞ্চগ্রাম স্কুল এ- কলেজের শত শত শিক্ষার্থী এবং বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান ভূঁইয়া নামে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের একজন নিয়মিত যাত্রী জানান, নোয়াখালী সড়কের চার লেনের উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে কুমিল্লার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই বছর যাবত হঢ়পলা খানাখন্দ এবং গর্তে নাভিশ্বাস ওঠছে অন্তহীন ভোগান্তিতে। তবে এই সড়কের চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন বয়স্ক ও মুমূর্ষু রোগিরা। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কুমিল্লার লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোটসহ ওই দক্ষিণ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। তার দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করে মানুষকে বোগান্তি থেকে মুক্তি দিন।

এলজিইডি কুমিল্লার সহকারী প্রকৌশলী রায়হান আলম চৌধুরী বলেন, গত বছরের বর্ষা এবং অতি বৃষ্টির কারণে গত অর্থবছরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ লাগবে সংস্কারের প্রয়োজন এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করা হবে। ২০০ কিলোমিটার সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা (৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮০ টাকা) অনুমোদন হয়েছে। এতোমধ্যে সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামীর বছরের প্রথম দিকের এই সড়কগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শেষ হবে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বেশ কিছু অংশ, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক এবং লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কসহ জেলায় সওজ বিভাগের আওতাধীন প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রায়োজন হয়েছে দাঁড়িয়েছে। আস্তে আস্তে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজ করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab