কান্দিরপাড়, কুমিল্লা | | বঙ্গাব্দ

‘ও মাগো মা, ও মাগো, আমারে মাইরালাইলো গো’ - আর্তনাদ এক নারীর, ভিডিও ভাইরাল

author
Reporter

প্রকাশিত : Oct 14, 2022 ইং
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাঁশ দিয়ে এক নারীকে দৌড়ে দৌড়ে পেটাচ্ছেন কয়েকজন লোক। এসময় ওই নারী ‘‘ও মাগো মা, ও মাগো, আমারে মাইরালাইলো গো’’ বলে আর্তনাদ করলেও উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ ভয়ে তাকে ধরতে আসেনি। এসময় নারীর সাথে থাকা তার ছেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পাষবিক এমন নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়তুলা গ্রামে ২ অক্টোবর এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর তিন দিন হাসপাতালে ছিলেন ভুক্তভোগী নারী ও তার ছেলে। হসপাতাল থেকে ফিরে ঘটনার ছয়দিন পর ৮ অক্টোবর ৬জনের নাম উল্লেখ করে লালমাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিচার দাবি করে শেয়ার করছেন ব্যবহারকারীরা। 

মামলার আসামিরা হলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর বোনের বড় ছেলে ও স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলওয়ার হোসেন (৪২), মো. পরান (২৫), মো. জামাল হোসেন (৩৮) ও আনোয়ার হোসেন (৪০)। তাদের বাবা মো. আব্দুস ছোবহান (৭০) ও দেলোয়ারের কর্মচারী মো. আলী মিয়াসহ অজ্ঞাত ৫ জন।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর নাম মোসাম্মৎ মাজেদা বেগম। তিনি নির্যাতন করা যুবকেরা ওই নারীর বড় বোনের ছেলে। জায়গা জমির বিরোধ নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাজেদার সাথে বড়তুলা মৌজায় সাবেক দাগ নম্বর- ১২৬ হালে ২১১ দাগের নাল- ৯ শতক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তার বোন ও বোনের ছেলেদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও তাকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিন ২ অক্টোবর অনুমান ২টার দিকে মাজেদা এবং তার ছেলে ওমর ফারুকসহ সবজির খেতে সবজি উঠানোর জন্য যাচ্ছিল। এসময় তারা হাতে লাঠি, সোটা, দা, ছেনি, নিয়ে মাজেদা ও তার ছেলেকে আক্রমণ করে। তারা মাজেদাকে কিল ঘুষি লাথি দেয়। এক পর্যায়ে মো. পরান(২৫), মো. জামাল হোসেন (৩৮) ও আনোয়ার হোসেন (৪০) তাদের হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে মাজেদার বাম হাতের কব্জিতে ও পিঠে, কোমরে, ডান হাতের কব্জির ওপরে বাড়ি দেয়। আনোয়ার মাজেদার ছেলে ওমর ফারুককে তার হাতে থাকা ছেনি দিয়ে মুখের নিচে জামির ওপরে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত করে। এসময় মাজেদার গলায় থাকা একভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন মুল্যও নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই নারী।

৮ সেকেন্ড ও ৫৪ সেকেন্ডের দুইটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মাজেদা নামের ওই নারীকে বাঁশ দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে পেটাচ্ছেন। এসময় ওই নারী একবার এদিক আরেকবার ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। এবং উপস্থিত স্থানীয়দের কাছে গিয়ে প্রাণ ভিক্ষা চান কিন্তু কেউই তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনা। এসময় তার ছেলে ওমর ফারুকের মুখে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতেও দেখা যায়।

নির্যাতনের শিকার মাজেদার ছেলে ওমর ফারুক বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আমার খালাতো ভাই দেলোয়ারের নির্দেশে তার তিন ভাই, তার বাবা ও তার কর্মচারী আমার আর আমার মাকে মেরেছে। এর আগেও তারা আমাদের বহুবার মেরেছে। আমাদের এই জায়গা নানা আমার বাকি তিন খালাসহ সবাইকে দিয়ে গেছে। দেলোয়ার ও তার মা আমাদের জায়গা দখল করে খাচ্ছে। তাদের নির্যাতনের ভয়ে কেউ কিচ্ছু বলেনা। পরে তারা সবাইকে হুমকি দেয়। স্থানীয়রাও তাদের নিয়ে আতঙ্কে আছে।

এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেরন বলেন, আমার খলার সাথে আমাদের এই জমির বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা এই জমি বিক্রি করে এখন অস্বীকার করছে। সেদিন তারা প্রথমে আমার ভাই পরানকে মেরেছে। তারপর সে সেখান থেকে কল দিলে আমার অন্য ভাইরা সেখানে যায়। এরপরের ঘটনাতো ভিডিওতেই আছে। তারা এটা পরিকল্পনা করে করেছে।

এই বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, আমরা ঘটনার পরই মামলা নিয়েছি। আসামিরা আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিন নিয়েছে। আমরা মেডিক্যার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষ করছি। রিপোর্টসহ আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদনের করে আদালতে দেব। 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab