নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার মুরাদনগরে স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টেইলার্স কারিগরের পিঠে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে ঘাতক পালিয়ে যায়। মোবাইল ফোনটি পানিতে পড়ে নষ্ট হওয়ায় ব্যবহৃত সিম খুলে মুরাদনগর বাজারে একটি সার্ভিসিং দোকানে মেরামত করার জন্য দিয়ে সিমটি নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায় ঘাতক। মুরাদনগরের চাঞ্চল্যকর বিকাশ চন্দ্র বর্মনের (১৬) ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘাতক শাকিবকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই হত্যাকা-ের তথ্য উম্মোচন করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান।
তিনি জানান, বিকাশ চন্দ্র বর্মন (৩০ অক্টোবর) রাতে পাশ্ববর্তী বাড়িতে লক্ষ্মীপূজা যায়। রাতে এবং পরদিনও না ফেরায় তার মা-বাবা বিকাশকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এপর্যায়ে নিখোঁজের তিনদিন পর (২ নভেম্বর) একটি ঘরের পার্শ্বে পুকুর পাড়ে কচুরিপানার নিচ থেকে বিকাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে বিকাশের বাবা প্রহলাদ চন্দ্র বর্মন (৫০) বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সূত্রে আরও জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর নিবিঢ় বিশ্লেষনের মাধ্যমে খুনির পায়ের ফেলে যাওয়া জুতা পর্যবেক্ষণ, পূজায় আহত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির সহাতায় ঘাতক শাকিবকে (২৪) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। শাকিব মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। পুলিশের দাবি শাকিব মাদকসেবক হতে পারেন।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে খুনির স্বীকারোক্তি জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে তিনি আরও জানান, বিকাশ চন্দ্র বর্মনসহ আরও কয়েকজন মিলে লক্ষ্মীপূজা শেষে মুরাদনগর বাজারে চা খেতে এসে দেখে চায়ের দোকান বন্ধ। তখন তারা ঠিক করলো বড়িতে ফিরে যাবে। ঠিক তখন মূষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টা তখন। বৃষ্টিতে তখন তারা মুরাদনগরের জেলেপাড়া পুকুরের একটি ৬ তলা বিল্ডিংয়ের নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বিকাশের সঙ্গে থাকা উত্তম বর্মন (২১) ও অজয় চন্দ্র সরকার সাবু (২২) বিকাশ ও খুনি শাকিবকে রেখে বাড়িতে চলে যায়। বয়সে বড় শাবিক বিকাশকে একা পেয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। বৃষ্টি একটু কমে আসলে বিকাশ বাড়িতে রওনা হলে ঘাতক শাকিবও তার পিছু নেয়। বিকাশ তার বসত বাড়ির পার্শ্বে পুকুরের পাড়ে পৌঁছলে শাকিবের কমরে থাকা ছুরি দিয়ে বিকাশের পিছনে পিঠে আঘাত করে। সে ফিরে প্রতিহত করার চেষ্টা করে বিকাশ। না পেয়ে বিকাশ দৌড়ে বাড়িতে দিকে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হলে এবার ঘাড়ে আঘাত করে। বিকাশ চিৎকার করে পুকুরের পানি পড়ে যায়। বৃষ্টির শব্দের কারণে তার চিৎকার কেউ শুনতে পরেনি। পরবর্তীতে ঘাতক শাকিব বিকাশের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পকেটে থাকা বিকাশের ব্যবহৃত লাভা কোম্পানীর এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে তার মরদেহ পুকুরে থাকা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান বলেন, ঘাতক শাকিবকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরি ঘটনাস্থলের পার্শ্বে পুকুর হতে উদ্ধার করা হয়।