নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোট উৎসবে সরগরম কুমিল্লা। প্রচারণার প্রথম দিনেই মাঠে ছিলেন কুমিল্লার হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা। সরাসরি প্রচারণায় নামেননি নৌকা প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। তবে তার পক্ষে নগরীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে স্টেশন রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ নেতা-কর্মীরা। প্রচারণার প্রথম দিন জুড়ে ছিল উন্নয়নে নগরীর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস। ছিল প্রার্থীর পোস্টার ছিড়া ও প্রচারের মাইকে হামলার অভিযোগ। আর আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে জরিমানা দেয়ারও অভিযোগ আছে।
সকাল ১০ টায় কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার। এসময় তিনি বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতির কুমিল্লা গড়তে চাই। কুমিল্লার মানুষ লুটেরা শ্রেণি থেকে মুক্তি পেতে চায়। কুমিল্লার মানুষকে মুক্ত করতে নির্বাচন করছি। আজকের মিছিল প্রমাণ করে কুমিল্লার মানুষ আসলে কতটা ত্যাক্ত-বিরক্ত! এবার ঘোড়ার জয় সু-নিশ্চিত।
এদিকে বেলা ১১ টায় নানুয়ার দিঘির পাড়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে প্রচারণায় নামেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।
তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল গভীর রাতে হেলমেট পরিহিত দুষ্কৃতিকারীরা মোটরসাইকেল করে এসে নগরীর চকবাজার হতে কান্দিরপাড় এলাকায় দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের পোস্টার ছিড়ে ফেলে। এছাড়াও নগরীর ভাটপাড়া এলাকায় আমার প্রচারের মাইকে হামলা করে মাইক ভেঙে ফেলে। আমার প্রচারণার প্রথম দিনে এমন অবস্থা হলে আমি কিভাবে কি করবো? তবে কাল সিইসি কুমিল্লায় আসলে আমি বিচার দিব।
মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক বলেন, আমি শো-ডাউনে বিশ্বাসী না। আমি ভোটারদের ঘরে ঘরে যাব। ভোটাররা আমাকে চিনে ও জানে। আমি সারা বছরই মানুষের ঘরে ঘরে যেতাম তাদের সমস্যা শুনার জন্য। তারপর তা সমাধান করতাম। কুমিল্লার মানুষ জানে তারা কাকে ভোট দিতে হবে।
বেলা সাড়ে ১১ টায়, জীবন্ত প্রাণী নিয়ে মিছিল করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর্থা চৌমুহনী এলাকায় মিছিল করা অবস্থায় এই জরিমানা করা হয়। জরিমানা করেন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা নিপা এই জরিমানা করেন।
তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করে জীবন্ত ঘোড়া নিয়ে প্রচারণা করায় প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা উনাকে সতর্ক করেছি। সামনে এমন বিধি যেন অমান্য না করে।
এদিকে বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকায় যানবাহনে পোষ্টার লাগিয়ে আচারণ বিধি ভঙ্গকরার দায়ে নৌকার মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরামানা করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নিপা।
তিনি বলেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢুলিপাড়া এলাকায় নির্বাচনী আচারণ বিধি লঙ্ঘন করে যানবাহনে নির্বাচনী পোষ্টার লাগিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা। তাই এই প্রার্থীকে তাৎক্ষনিক ১০ হাজার টাকা জরিমান আদায় করা হয়। এছাড়াও সামনের দিনের জন্য সতর্ক করা হয়।
বিকেল ৩ টায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সতর্ক করতে মাঠে নামেন কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী। এসময় তিনি সিটি কর্পোরেশনের এক, দুই, তিন ও পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, সকালে পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ পেয়েছি। এটার খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাদের জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মাঠে আছে। প্রার্থীদের বলবো আপনারা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করবেন না। তাহলে আমরা আমাদের ব্যবস্থা নেব।