ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

অবশেষে মায়ের কোলে চড়ে বাবাকে ঘরে ফিরলো ৭ মাসের শিশু মাহাদী

author
Reporter

প্রকাশিত : Nov 30, 2025 ইং 82 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

মায়ের কোলে ১৫দিন কারাবাসের পর বাবাকে সাথে নিয়ে জেল থেকে বের হলেন ৭ মাসের শিশু মাহাদী হাসান মাহির। বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের কোলে চড়ে কারামুক্ত হয় শিশু মাহাদী। কারামুক্তির পর শিশু মাহাদীর মা শাহানাজ বেগম জানান, আমি নির্দোষ। আমাকে এবং আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে হত্যার আসামি করা হয়েছে। আমার দেবরের স্ত্রী আত্মহত্যা করে মারা যান। ওই মামলায় আমার স্বামীর সাথে আমিও আত্মসমর্পন করি। বিচারক জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন। তখন আমার কোলজুড়ে ছিল আমার সাড়ে ৬ মাসের ছোট্ট শিশুটি। কারাগারে চার দেয়ালে অন্ধকার একটি কক্ষে রাখা হয়। রাতে আলো না পেয়ে আমার শিশুটি কান্না করতে থাকতো। এদিকে খাবার না পেয়ে শিশুটি আরও বেশি কাঁদতো। আমার স্বামীরও এই মামলায় তখন কারাগারে ছিলেন। কোলে শিশু ছেলেকে রেখে আমাকে দুইদিনের রিমান্ড দিয়েছে। রিমান্ড নামঞ্জুরের আবেদনেও একটু সহানুভূতি মিলেনি বিচারকের কাছ থেকে। দুই দিনের রিমা- শেষে ছেলে আবার বুকে নিয়ে সেই অন্ধকার কক্ষে থাকতে হয়েছে। এরমধ্যে জেলখানার দূষিত পরিবেশে ছেলের চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। চলমান করোনা ভাইরাসের ভয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে আমি কারাগারের ভিতরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি।

জানা যায়, দেবরের স্ত্রীর আত্মহত্যা ঘটনায় হত্যার অভিযোগে মামলায় শিশু মাহাদী হাসানের মা শাহনাজ আক্তার আদালতে আত্মসমর্পন করে। পরে বিচারক শিশুছেলেসহ শাহানাজ আক্তারকে কারাগারে প্রেরণ করেন। 

জামিনের আবেদনে বুধবার (৪ নভেম্বর) শিশুসহ মাকে আদালতে হাজির করানো হয়। এইদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামসহ ঢাকা থেকে কয়েকজন আইনজীবী একটি মামলা শুনানির  জন্য কুমিল্লা কোর্টে যান। মামলা পরিচালনার সময় কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভিতরে দেখেন একটি শিশু কাঠগড়ার মধ্যে গড়াগড়ি করছে। আবার কখনও কান্না করছে। তখন তাদের নজরে পড়লে তারা শিশুসহ ওই মাকে জামিনের জন্য বিচারকের মুখোমুখী হন। পরে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাব উল্লাহ শিশুসহ মা শাহনাজ আক্তারকে জামিন প্রদান করেন। 

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবি এড. আক্তার হামিদ খান কবির। 

তিনি জানান, গত ২০১৮সালের ১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ আয়েশা আক্তার রীমা। এই মৃত্যুর ঘটনায় গৃহবধূ আয়েশার বাবা তার স্বামী নাসির উদ্দিন, ভাসুর মাসুম ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গত ১৯ অক্টোবর আদালতে মামলায় স্বামী ও স্ত্রীকে ওই শিশুসহ আত্মসমর্পন করে দিয়েছি। তখন আমরা মনে করেছি আদালত স্বামীকে কারাগারে পাঠিয়ে শিশুটির কারণে স্ত্রীকে জামিন দিবেন। কিন্তু আদালত ওইখানে আমাদেরকে হতাশ করেছে। এরপর পুলিশ শিশুর মাকে রিমান্ডের আবেদন করে। ভেবেছি চিকেন পক্সে আক্রান্ত শিশুর কথা চিন্তা করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করবেন না। কিন্তু সেখানেও আমদেরকে হতাশ করেছে আদালত। অসুস্থ শিশু কোলে থাকা একজন নারীকে দুইদিনের রিমান্ড দেয় আদালত। যা অন্যায় হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বুধবার জামিন শুনানির সময় মামলাটি নিয়ে বিচার নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২৬ মাসের চার্জসিট দিতে পারেননি।   




নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS