ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিদায় বিশে নতুন জীবনাচরণ শিখলো বিশ্ব

author
Reporter

প্রকাশিত : Mar 27, 2026 ইং 135 বার পড়েছে
ছবির ক্যাপশন:
ad728

অনলাইন ডেস্ক

প্রায় এক শতাব্দী আগে বিশ্বকে ঘায়েল করেছিল ‘স্প্যানিশ ফ্লু’। তখন এই মহামারি ঠেকাতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের নেওয়া পদক্ষেপের আছে অনেক মিল। নভেল করোনাভাইরাসকে বলা হচ্ছে বৈশ্বিক অতিমারি। তাই মানবসভ্যতায় আবারও নতুন করে প্রবেশ করেছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর সামাজিক দূরত্বে মেনে চলার প্রবণতা। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’তে সারাবিশ্বে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। আর করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত আক্রান্ত করেছে সোয়া ৮ কোটি মানুষকে। আর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় চীনের উহান প্রদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং প্রথম মৃত্যু ১৮ মার্চ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ই মার্চ কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। কর্মহীন হয়ে পড়ে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী নানা ব্যবস্থা নিয়েছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে আছে মাস্ক পড়া, শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা, হাত ধোঁয়া এবং জীবাণুনাশক স্প্রে করা। দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যবস্থা। বিভিন্ন দেশ লকডাউনের পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করছে সাধারণ মানুষকে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ভ্যাকসিন আসার আগে মাস্ক পরিধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মাস্ক বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

শত বছরের মধ্যে সাধারণ মানুষ কখনও এমন পরিস্থিতির মধ্যে আর পড়েনি। স্প্যানিশ ফ্লু’র পর আরও অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল বিশ্বে। তবে করোনার মতো অতিমারির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও দেশের জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ড আবু জামিল ফয়সেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্প্যানিশ ফ্লু’র পর শত বছরের মধ্যে এরকম পরিস্থিতি আর হয়নি। মহামারি হয়েছে কয়েকবার কিন্তু এরকম অতিমারি হয়নি। এই অতিমারি আমাদের শিখিয়েছে সংযমী হওয়া। নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, মাস্ক পরে থাকা, ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া, দূরত্বে থাকার কথা জনস্বাস্থ্যে আমাদের সবসময় বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, করোনা আমাদের শিখিয়েছে প্রতিষেধকমূলক কাজ করার। নিয়মিত ব্যায়াম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, ফুসফুসের ব্যায়াম এগুলার প্রতি ঝোঁক বাড়িয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শাক-সবজি, ফলমূল খাওয়া উচিত। আমাদের সংযমী হয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। এই রোগ আমাদের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কাজ আরও বেশি করে করার শিক্ষাটা দিয়েছে। যদি আমরা প্রতিরোধের কথা বলছি, এই মহামারিতে আরোগ্য লাভের উপায় তো ছিল না। এখন ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে, তাও কতটুকু প্রতিরোধ করতে পারবে তার ঠিক নেই।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মী ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি করোনা তাদের কম আক্রমণ করেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদেরই বেশি হয় যারা ফলমূল শাকসবজি বেশি খায় এবং যাদের খাবারে ভারসাম্য থাকে। যারা শরীরে প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদ পোহায়, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকে এবং কৃত্রিম পরিবেশে কম থাকে, একই সঙ্গে হিমায়িত খাবার কম খায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। যারা এসব থেকে মোটামুটি দুরেই থাকেন তাদের করোনা বেশি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে—এটাই শেষ নয় আরও আসবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষা হচ্ছে জীবনযাপনে প্রকৃতির সান্নিধ্য থাকতে হবে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কার্যক্রম একদল গবেষককে দায়িত্ব দিয়েছিল মহামারির কারণ খুঁজে বের করার। তারা ছয়টি পয়েন্টে একমত হয়েছে। সেখানে মূল বিষয় হচ্ছে মানুষ বন এবং বনভূমিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফলে যেসব অচেনা ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া বনে জঙ্গলে বাস করতো তারা এখন বাধ্য হয়ে সমাজে প্রবেশ করছে। এদেরই এক দুটি যখন সংক্রমণ করে ফেলে তখনই অতিমারি কিংবা মহামারি তৈরি হয়। এ কারণে বনভূমি এগুলোকে ধ্বংস করা যাবে না। যেভাবে বসতি বাড়ছে বন এবং মানুষের মাঝখানে যে ফাঁকা জায়গা ছিল সেটি কিন্তু এখন আর নেই। যার ফলে অচেনা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মানুষের আদান প্রদান ঘটছে। আজকের এই যোগাযোগের যুগে যেকোনো নতুন রোগের একটি রোগী একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকবে এটা যে ভুল সেটার শিক্ষা আমরা করোনা থেকে পেয়েছি। এই কারণে একক দেশ ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, বিশ্বভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করি।




নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভয়েস অফ কুমিল্লা
সকল কারিগরী সহযোগিতায় A2SYS