
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৯ তম জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় কুমিল্লা-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেছেন, সমবায় রাষ্ট্রের দ্বিতীয় মালিক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস আমাদের কৃষকরা মাছে ফসল ফলাতে পারেননি। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গর্তের কিনার থেকে তুলে বুকে নিয়ে সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে চেয়ে ছিলেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে এক সভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করুন। কিন্তু দেশ বিরোধী সেই চক্রান্তকারীরা বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দেননি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে ঘাতকরা জাতিরজনকের সব স্বপ্ন মাঠির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। তারপরও তাদের চক্রান্ত বন্ধ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যে সমবায়কে দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছেন, সেই সমবায়গুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচনসহ সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, যেখানে তিনি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সমবায়কে। শনিবার কুমিল্লা টাউনহল নগর মিলনায়তনে ৪৯ তম জাতীয় সমবায় দিবস উৎযাপন কমিটির আয়োজিত আলোচনা সভায় এমপি বাহার এসব কথা বলেন।
এমপি বাহার আরও বলেন, কুমিল্লায় সমবায়কে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। পল্লী উন্নয়ন বার্ড কুমিল্লায় সমবায়কে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। বলতে পারি কুমিল্লা থেকেই সমবায়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। তার বলতো কুমিল্লা এগুলে যেমন বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, ঠিক তেমনি ভাবে সমবায় এগুলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায় উন্নয়ন’ এই স্লোগানে জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা কোটবাড়ি বাংলাদেশ সমবায় একাডেমির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হরিদাস ঠাকুর, কুমিল্লা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এড. আমিনুল ইসলাম টুটুল, কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা আল-আমিন এবং এড. কাজী নাজমুছ সাদাত প্রমুখ।
সমবায়ে অবদান রাখায় বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী দিলনাশী মহসিন ও এড. কাজী নাজমুছ সাদাত।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর এ দর্শন বাস্তবায়নে সবার আগে প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন, ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ এবং উদ্ভাবনী মতার প্রয়োগ। বঙ্গবন্ধুর সমবায় ভাবনাকে পাথেয় করে ইতিবাচক মানসিকতায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে তাই আসুন বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনকে সোনার বাংলা গড়ার হাতিয়ার হিসেবে যথার্থ অর্থে কাজে লাগাই। আর উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার েেত্র সমবায়ের অন্তর্নিহিত শক্তির অপরিহার্যতা প্রমাণ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করি।