
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা মুরাদনগরে গেজেটভুক্ত ২২৩ জন মুক্তিযোদ্ধার ভেতর যাচাই-বাছাইয়ে ৮৫ জনের নাম লাল মুক্তিবার্তায় রয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় ১১৫ জনের নাম ‘ক’ তারিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সাক্ষ্য প্রত্যাহার করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ যাচাই বাছাইয়ে বাদ পরেছেন ৫জন। বাকি ১৮জন অনুপস্থিত। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম তোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর যাবত ভাতা নেওয়ার বিষয়টি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে ওই ২২৩ জন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বাছাই কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। তবে সকল ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার।
যাচাই বাছাই তালিকা থেকে বাদ পরেছেন, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের সুলতান আহম্মদের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল, ঘোড়াশাল গ্রামের আছমত আলী সরকারের ছেলে মজিবুর রহমান, সাহেবনগর গ্রামের মৃত করম আলীর ছেলে খলিলুর রহমান, নহল গ্রামের মুন্সি আজগর আলীর ছেলে আবদুল মতিন ও বাংগরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম।
যাচাই বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়ালের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত যে সব মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে নেতিবাচক নানা তথ্য যায়। অনেক মুক্তিযোদ্ধার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ২২৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাইয়ের আওতায় আনতে পত্র আসে মুরাদনগরে। সে মোতাবেক ২২৩ জন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার কাছে চিঠি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নির্দেশনা বিধি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাছাই সম্পন্ন করেছে গঠিত কমিটি।
যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ার বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ জানান, যাচাই-বাছাইয়ে আমরা তিন ধরনের তালিকা করেছি। তিন ধরনের তালিকাতেই দ্বিধা-বিভক্ত, বাতিল এবং পজেটিভ সবগুলোই আমরা জামুকায় পাঠিয়েছি। জামুকা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। এই মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ যাচাই বাছাইয়ে ৫ জন বাদ পড়ার বিষয়ে এখনও জানতে পারেনি।
জামুকার চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত মুরাদনগরে যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়ালের তিনজন সাক্ষী হারুনুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম ও ইদ্রিস আলী লিখিত ভাবে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করে, তাছাড়া যুদ্ধে যাওয়ার স্ব-পক্ষে তাঁর কোন দালিলিক প্রমানাদি না থাকায় সেসহ ৫ জনকে উপজেলা কমিটি অমুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তাছাড়া যাচাই বাছাইয়ের আওতায় আসা ২২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জনের নাম লাল মুক্তি বার্তায় রয়েছে। ১১৫জন সামগ্রিক বিবেচনায় ‘ক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাকিরা অনুপস্থিত।
বাছাই কমিটিতে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের এমপির মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া ও জেলা প্রশাসকের মনোনীত সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ।