
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে গত ২৯ নভেম্বর থেকে করোনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকায় কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস কোন করোনা রিপোর্ট সরবরাহ করতে পারছেন না। এতে করে নমুনা প্রদানকারী রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাতের সাথে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। এদিকে পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয় নমুনা সংগ্রহও বন্ধ রেখেছেন। গত ২-১ দিন আগে যেসব রোগিরা নমুনা দিয়েছেন সেগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠানো হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই নমুনাগুলোর রিপোর্ট হাতে পায়নি সিভিল সার্জন কার্যালয়। পিসিআর ল্যাব বন্ধসহ এসব সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পড়েছেন বিদেশযাত্রীরা।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল আজাদ জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও রুমের সকল আসবাবপত্রে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে পড়েছে। যার কারণে ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস মুক্ত করতে অ্যালকোহল ও জীবানুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ল্যাবসহ রুমের সকল আসবাবপত্র ওয়াশ করে জীবাণুমুক্ত করতে ঢাকা থেকে লোক এসেছে। ল্যাব জীবাণুমুক্ত হলে আগামী রবিবার বা সোমবারের মধ্যে পূণরায় নমুনা পরীক্ষা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা নগরীতে বিভিন্ন হাসপাতালের ভর্তিকৃত চিকিৎসাধীন রোগীদের করোনা পরীক্ষার জন্য সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে নমুনা প্রদান করলেও কোন রিপোর্ট না পাওয়ায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকায়।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে করোনা রোগিদের কোন রিপোর্ট সরবরাহ করা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নাকি নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না কি একটা সমস্যার কারণে। তাদের ল্যাব বন্ধ থাকায় আমরা নমুনা পরীক্ষাও বন্ধ রেখেছি। তবে বিদেশগামীদের দেওয়া নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারাও কোন রিপোর্ট দিতে পারেনি।