
মুরাদনগর সংবাদদাতা
জ্বালাও-পোড়াও গাড়ি ভাংচুর ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৫ মামলার আসামি। বিএনপি’র বলিষ্ঠ পদ-পদবীর নেতা না হলেও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েই ভূমি জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি বাগিয়ে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে অন্যের জমি করছেন ভরাট। তিনি হচ্ছেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৯নং কামাল্লা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল করিম কনু মিয়ার ছেলে মাসুদুর রহমান (৪৩)। স্থানীয়দের মুখে মুখে মাসুদ জালিয়াতির হেড মাস্টার।
স্থানীদের বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা যায়, মাসুদুর রহমান ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী সারমিন আক্তার সুমিকে ৫১ শতক সম্পত্তি লিখে দেন (যার দলিল নং ১৫৪২)। এরমধ্যে কামারচর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৪৩২৭ দাগে সর্বমোট জায়গার পরিমান ৫ শতক। সে ৫ শতককে ১৫ শতক বানিয়ে জালিয়াতি করে। এ দিকে উক্ত দলিলে ৪৩২৬ দাগের ১৮ শতক সম্পত্তিও রয়েছে। ওই ১৮ শতক সম্পত্তির মালিক আব্দুল কাদির ও জুয়েল মিয়া গং।
অপর দিকে মাসুদুর রহমান আরও একটি ভুয়া দলিল সৃজন করে ৪৩৪৩ দাগ থেকে ৩৩ শতক সম্পত্তি দাবি করে (দলিল নং ৯২৪, তারিখ : ১০/০২/৬৬)। অথচ বলিয়ম থেকে দলিল উত্তোলন করে জানা যায়, ওই দলিলের মূল মালিক আছানপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিন গং। উক্ত ভূয়া দলিল দিয়ে বি.এস সংশোধনের জন্য মাসুদ তার স্ত্রী সারমিন আক্তার সুমিকে দিয়ে কুমিল্লার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে এল.এস.টি (যার নং ৯৮৭/১৯) মামলা দিয়ে কামাল উদ্দিন গংকে অহেতুক হয়রানি করছে বলে জানা গেছে।
মামলা থাকা সত্ত্বেও সে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে যৌথ মালিকানিাধীন ওই পুকুরটি ভরাট করছে। অথচ যৌথ মালিকানা পুকুরটি এলাকার সর্বসাধারণ পানি দিয়ে রান্নাবান্না, গোছলসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন। অপর দিকে তৎকালিন বিএনপি সরকারের আমলে চিকিৎসার নামে নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত বাতেন সরকারের ছেলে আলাউদ্দিনকে (৪৫) অপহরণ করে নেয়। পরে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে ছাড়া পায়।
অপহণের শিকার আলাউদ্দিন বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে ঢাকা শহরে ভাল ডাক্তার দেখানোর নাম করে চন্দনাইল নিয়ে আমাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা চায়। পরে স্থানীয় মাতাব্বর হানিফ মিয়ার মধ্যস্থতায় ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে আমাকে ছাড়িয়ে আনে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান জ্বালাও-পোড়াও গাড়ী ভাংচুর, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, নাশকতা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও বিস্ফেরক এ ৫টি মামলার আসামি। তবে সবকটি মামলায় জামিনে রয়েছেন সে। মাসুদ বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী এমন ২/১ জনকে হাত করে অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবত। কামারচর মৌজার ৩ ফসলি প্রায় ১৩০ একর জমি ছোট-বড় পুকুরে পরিনত করেছে। ২/১জন কৃষক থেকে নামমূল্যে মাটি কিনলেও অধিকাংশ নিরীহ কৃষককে জিম্মি করে জমির মাটি খনন করছে মাসুদ।
নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত দুধ মিয়া ব্যাপারীর ছেলে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বলেন, মাসুদ ভুয়া দলিল বানিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। এতেও সে খ্যান্ত হয়নি, প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে আমার জায়গা ভরাট করছে। আমি আদালতের স্বরণাপন্ন হলে আদালত ১৪৫ ধারা জারি করেন। তারপরও সে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে জমি ভরাট করাই যাচ্ছে।
নোয়াগাঁও গ্রামের মাতাব্বর হানিফ মিয়া বলেন, ‘এলাকার লোক এখন তাকে মাসুদ নামে চিনেনা, চিনে জালিয়াতির হেড মাস্টার হিসাবে। হেন কোন কাজ নেই সে করে না। জালিয়াতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ড্রেজার ও জাল টাকার ব্যবসা এ সকল কর্মকান্ডের সাথে সে জড়িত। তার বেশ-পোষাক আর কাজে কোন মিল নাই। একাধিক মামলার আসামী হয়ে কি ভাবে এই অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে আমাদের গ্রামবাসীর মাথায় ধরে না।’
অভিযুক্ত মাসুদুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমি আপনার সাথে অফিসে এসে দেখা করব, এই বলে লাইন কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাংগীর আলম বলেন, ভুক্তভোগি কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।