
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লায় নির্মাণাধীন অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নে উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছিল ওই সেপটিক ট্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২০মার্চ) বিকেলে শিশুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের প্রবাসী মোহাম্মদ রিজানের কন্যা মোসাম্মৎ নুর (৩)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আবদুর রহিম।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, রসুলপুর বিদ্যালয়টি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ কাজ দুই মাস আগে শুরু করলেও, নানা অজুহাতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করেনি,দীর্ঘদিন ধরে অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াই ফেলে রাখা হয়, সেপটিক ট্যাংকের জন্য করে রাখা গর্তটি। বৃষ্টির পানিতে পুরো হয়ে যাওয়ায় ওই শিশুটি পড়ে যায় গর্তে। পরে দুপুর ২টার দিকে নুরের লাশ ভেসে উঠে ওই গর্তের পানিতে।
উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইয়াসমিন আক্তার জানানো, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের নোমান দীর্ঘ দেড়মাস ধরে সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণের কাজ করে আসছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বার বার তাড়া দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ছিল চরম পর্যায়ে।
উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ স্বপন আহমেদ বলেন, আমরা বারবার ঠিকাদারকে বলেছিলাম, যেন সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য, উনি কেন এটা করলেন না, আমার বোধগম্য নয়। আমরা উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি যাথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।