
নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রায় আট মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কুমিল্লার ২ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষক। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকেই ছুটছেন ভিন্ন পেশায়। দিনমজুর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত হচ্ছেন তারা। বেশ কয়েকটি স্কুলের অন্তত ১৬ জন শিক্ষক ও জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই জেলায় নিবন্ধনকৃত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৮১টি। এর বাইরেও রয়েছে অনেক স্কুল। বর্তমানে এই সংখ্যা ২ হাজারের মতো।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাসিক ফির ওপর নির্ভর করে শিক্ষকদের বেতনসহ সার্বিক কার্যক্রম। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা ফি বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কমলাপুর চাইল্ড হেভেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, ‘করোনার শুরুতে স্কুল ফান্ড থেকে দুই মাস শিক্ষকদের বেতন দিয়েছি। এরপর আর বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কবে স্কুল খোলা হবে তাও জানি না। করোনার প্রভাবে দীর্ঘ এ সময়ে অনেক অভিভাবক কর্মহীন হয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই স্কুল খুললেও সব শিক্ষার্থী ফিরবে কি না—এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
শাসনগাছা এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক আজাদ বলেন, ‘বেতন বন্ধ। তাই এখন ৫০ টাকা লিটার দরে দুধ কিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে কোনো মতে সংসারের খরচ চালাচ্ছি।’ বুড়িচং উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক রবিউল বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। এখন রঙ মিস্ত্রির কাজ করছি।’